অস্ত্রোপচারে ব্যর্থ হয়ে চিকিৎসক উধাও !

স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেট বিশেষায়িত হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে ব্যর্থ হয়ে রোগী ফেলে চিকিৎসক পালিয়ে গেছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন রোগী ও তার স্বজনরা। সোমবার রাতে নগরের সিলেট ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হসপিটালে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা অভিযোগ তুলেছেন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক অর্থোপেডিক সার্জন সুমন মল্লিকের বিরুদ্ধে। পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই অপারেশন শুরু করে মাঝপথে রোগীকে বিপাকে ফেলেছেন বলে দাবি তাদের।

জানা গেছে, কাতার প্রবাসী মনছুফ মিয়ার গোড়ালি ভেঙে গেলে প্রবাসে থাকতেই সেখানে প্লেট লাগান। প্লেট অপসারণের জন্য দুই সপ্তাহ আগে অর্থোপেডিক সার্জন সুমন মল্লিকের কাছে যান। তার পরামর্শে তিনি ভর্তি হন সিলেট ট্রমা সেন্টার নামের এই হাসপাতালে।

মনছুফ মিয়ার স্বজনরা জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ২০ টাকা জমা রেখে সোমবার রাতে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। অস্ত্রোপচার শুরুর ১০ মিনিট পরেই চিকিৎসক এসে জানান, অস্ত্রোপচার সফল হয়নি। এ চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, বিদেশে নিয়ে যেতে হবে। এরপর জমাকৃত ২০ হাজার টাকার মধ্যে আট হাজার টাকা রোগীর স্বজনদের ফিরিয়ে দেবার নির্দেশ দিয়ে চলে যান চিকিৎসক।

এ বিষয়ে অস্ত্রোপচারে ব্যর্থ চিকিৎসক ডা. সুমন মল্লিক জানান, মেকানিক্যাল সমস্যার কারণে অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। কারণ তারা বিদেশে যে স্ক্রুটি লাগিয়েছে সেটা খুলতে যে ডিভাইস লাগে সেটা আমাদের কাছে নেই। তাই অপারেশন সম্পন্ন করা যায়নি।

কোন ডিভাইসের প্রয়োজন সেটা না জেনে কেন অস্ত্রোপচার শুরু করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশে প্লেট লাগানোর কারণে আমি জানতাম না স্ক্রুটি খুলতে কোন ধরনের ডিভাইস লাগেবে। তাছাড়া তাদের কাছে কোনো ডকুমেন্টসও ছিল না। আমি অস্ত্রোপচার শুরু করার পর দেখলাম এটি খোলার ডিভাইসটি নেই। তাই শেষ না করে ফের সেলাই করে রেখে দিয়েছি।

এদিকে এ ঘটনার পর বেরিয়ে আসে আসে বিশেষায়িত নামের এ হাসপাতালের নানা অনিয়মের চিত্র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। নেই পরিবেশের ছাড়পত্রও। এছাড়া এখানে নেই কোনো আবাসিক চিকিৎসক বা সার্জন। তবে সিলেট সিটি করেপারেশন ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে ট্রমা সেন্টারের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, আমাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে, হাসপাতালের অনুমোদনের জন্য তিন মাস পূর্বে সিভিল সার্জনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, কোনো অবস্থাতেই অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো যায় না। আর সিভিল সার্জন দপ্তর হাসপাতালের অনুমোদন দেয় না। যে বা যারা এমন কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে চালাচ্ছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

FaceBook