করোনাকালে হবিগঞ্জের সাহসী সমাজকর্মী “সৈয়দা কুমকুম”

জিতু তালুকদার, মৌলভীবাজার:: বিশ্বজুড়ে নতুন মহামারির নাম “করোনাভাইরাস”। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অদৃশ্য এ শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধে নেমেছে রাষ্ট্র। যার যা কিছু আছে তা নিয়ে এ যুদ্ধে শামিল হয়েছেন মানবতাবাদীরাও। কেউ কেউ বাংলাদেশে একে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন।

এই ভয়াবহ মহামারী করোনা পরিস্থিতে নিজের পরিবার যখন নিজের সাহায্য আসছেনা, সন্তান তার বাবা মার খবর নিচ্ছে না, বৃদ্ধ মা সারা রাত করোনায় আক্রান্ত ছেলের মৃত দেহের পাশে বসে লাশ পাহাড়া দিয়েছে কিন্তু ছেলের লাশের দাফনের জন্য কেউ এগিয়ে আসে নাই। সারা বিশ্বের ন্যায় এমন পরিস্থিতে বাংলাদেশ যখন দিশেহারা আর মানুষ যখন আতংকে কর্মহীন ও অসহায় হয়ে গৃহবন্দী তখন হবিগঞ্জের যে ক’জন ব্যক্তি নিজেকে উজার করে মানুষের জন্য লড়ছেন তাদের একজনের নাম সমাজকর্মী ও স্কুল শিক্ষিকা সৈয়দা শরীফা আক্তার কুমকুম। তিনি হবিগঞ্জ শহরস্থ জে.কে এন্ড এইচ.কে হাইস্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, হবিগঞ্জ পৌর শাখার আহবায়ক। কখনও সচেতনতার বার্তা, কখনও ঘরবন্দি কর্মহীন মানুষের ঘরে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে চলছেন প্রতিনিয়ত। জনপ্রতিনিধি না হওয়া সত্তেও তার এ মানবিকতা নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। যিনি একজন নারী হয়েও “ভয়কে জয় করেছেন সাহসিকতা ও মানবতার কোমল হাতে”।

ফলে করোনাকালে হবিগঞ্জ শহরে সৈয়দা কুমকুম এখন একটি “মানবিক ও সাহসী নাম”। জানা যায়, সৈয়দা শরীফা অাক্তার কুমকুম শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র, অসহায় মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সহযোগীতামুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি তার মরহুম পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করছেন “সৈয়দ আব্দুল মুকিত ফাউন্ডেশন।” ঐই ফাউন্ডেশনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালালনা করেন তার উপার্জিত অর্থ থেকেই। করোনাকালে তার চাকুরীর বেতন,ভাতা ও বোনাস সবকিছই মানুষের পাশে দাড়াতে ব্যয় করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় করোনা যুদ্ধের শুরু থেকেই সচেতনতা ও মানবিক কর্মসুচীর অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি । ইতিমধ্যে তিনি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ পৌরসভা ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গৃহবন্দী কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শহরের মাহমুদাবাদ, তেঘরিয়া, অনন্তপুর, মোহনপুর, উমেদনগর,পুরান মুন্সেফী শহরতলীর পইল ইউনিয়নের গুচ্চ গ্রাম ও গোপায়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করে নিজ হাতে ত্রাণ সামগ্রি পৌছে দিয়েছেন। প্রতিবন্ধীদের খুঁজে বের করে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।

এছাড়াও আওয়ামী পরিবারের মহিলা আওয়ামী লীগ, পৌর ছাত্রলীগ, পৌর শ্রমিকলীগ ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের অসহায় নেতা কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন এবং যা এখনও চলমান রয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী ও ঈদ উপহারের মধ্যে আছে চাউল, ডাল, তেল, চিনি, আলু, সেমাই, নুডলস, পেয়াজসহ নানা নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য। সৈয়দা কুমকুম বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। এই ভয়াবহ দূর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব। লোক দেখানো কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।” তিনি বলেন, “সরকারের ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান সকল মানুষের উচিত এ মহামারিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

তাহলে দেশের কোন অসহায় মানুষ অনাহারে থাকবে না।  তিনি আরও বলেন, দেশ ও বিদেশ থেকে অনেকেই তার এরূপ কমর্কান্ডের প্রশংসা করেছেন ও প্রেরণা যোগাচ্ছেন। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তিনি।

Fast Harpic Add

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

FaceBook