খোয়াই পাড়ের গোলাম মোস্তফা শৈবালের পাঁচটি গান

সজিব তুষার::  গোলাম মোস্তফা শৈবাল। চলনে গড়নে খুবই সাদামাটা একজন মানুষ। সমাজের শ্রেনিবৈষম্য, অপরাজনীতি, হত্যা, খুন, গুম, লুণ্ঠন যাকে কাতর করে রাখে সহসাই। বহুদিন বহু-দেশ ঘুরে অবশেষে মাতৃভূমিতে ফিরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হতেই গানে গানে প্রতিবাদ শুরু করেন তিনি। যদিও ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির অভ্যাস ছিল প্রচণ্ড। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার মিরপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। সিলেটের যে কজনের সাথে তাঁর পরিচয় সবাই তাকে ‘খোয়াই পাড়ের কবি বলেই চেনেন। ১৯৮০ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলতঃ গণসংগীত লেখেন। গানের মধ্যে সামাজিক বাস্তবতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন তিনি। এখন পর্যন্ত তাঁর গানের জন্য ভাল সুরকার না পাওয়ায় নিজের মত করেই সুর করেন তিনি। যেখানেই গান গাওয়ার সুযোগ পান, পাড়ি জমান সময়ের আগেই। গণসংগীত রচয়িতা গোলাম মোস্তফা শৈবালের লেখা পাঁচটি অসাধারণ গান নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের এই ফিচারটি। (১) সোনার বাংলার সোনার মানুষ শোন দিয়া মন গরীব দুখীর কথা আমি করিব বর্ণন। অন্ন,বস্ত্র,চিকিৎসা আর খাদ্য,বাসস্থান গণতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী করে যায় প্রদান। কিন্তুরে ভাই নেতায় লুটে আমজনতার মাল হিসাব কিতাব চাইলে উল্টো করে গালাগাল। চীনাজোঁকের মত নেতায় রক্ত চোষে খায় রাত বারটায় আগুন জ্বলে শ্রমিকের চুলায়। গরীব দুখী দিনমজুরের পেটে মাইরা লাথি রাতারাতি কিছু নেতা আঙুল ফুলে হাতি। বাড়িওয়ালা জপে কৃষ্ণ,মোহাম্মদ আর যিশু বস্তি আর ফুটপাতে ঘুমায় জরাজীর্ণ শিশু। বড়লোকের বেটায় করে কাঙালের ধন চুরি, হাতে লাগায় দামী দামী রোলেক্স,রাডো ঘড়ি। সাধারণ জনগণ চাইলে ন্যায্য অধিকার ত্যাড়া মুখে তেড়ে আসে মন্ত্রী-মিনিস্টার। পাগলা ঘোড়ার মত ছুটে জিনিসপাতির দাম ঘর নষ্ট বড় ভাই পাগল কেমনে বুঝাইতাম। দেশের ১লক্ষ চৌচাল্লিশ হাজার বর্গমাইল বাড়তি টাকা না দিলে ভাই আটকে থাকে ফাইল। উচিৎ কথা বললে’রে ভাই চৌদ্দগোষ্টি ঝাড়ে বেঈমান আর মীরজাফর দেখি সরকারি চেয়ারে। কোকিলেরা ডিম পাইড়া যায় বাচ্চা তুলে কাকে শ্রমিক মাইরা শিল্পপতি অট্টালিকায় থাকে, গায়ের রক্ত পানি কইরা ফলায় যারা ধান সুদের জ্বালায় বিক্রি করে বাপের ভিটা-খান। এবার বলি গাঁয়ে গঞ্জে মাতব্বরের হাল মালপানি না দিলে’রে ভাই তিলরে বানায় তাল। লাঠিয়ালে গায়ের জোরে করে মারামারি নিরীহরা দৌড়াইয়া যায় ময় মুরুব্বীর বাড়ি। ত্রিপল ফাইভের প্যাকেট একখান কিন্না দিলে পরে অমানুষ মানুষের বেশে উল্টা বিচার করে। সাথে যদি ধরাইয়া দাও লম্বা একখান নোট তোমার পক্ষে যাবেরে ভাই অনিষ্টদের ভোট। বৈঠকে বসিয়া সৎ লোক সত্য বলতে চায় অসতের ইশারায় কারো কণ্ঠ থেমে যায়। গাঁও-গেরাম,শহর-বন্দর,নগরের নিজের অধিকার আদায়ে হও’রে সচেতন। মোঃ গোলাম মোস্তফা শৈবাল আমার নাম বাহুবলের মিরপুর বাজার স্বর্নরেখ গ্রাম পীর আউলিয়ার সিলেট ভুমির হবিগঞ্জ জেলা লাঞ্চিতদের কথা নিয়া বসাই গানের মেলা। (২) তোর মত বেঈমানকে আমি মানিনা গাঁয়ের মোঁড়ল- দরকার হলে ছেড়ে দেব পঞ্চায়েতের দল।(১) মেল-মিটিংয়ে বসলে’রে তুই উল্টা ঘুরে চাকা দুধের সাথে জল মেশাতে মোঁড়ল’রে তুই পাকা, সোজারে তুই করিস বাঁকা নীতি করিস রদবদল।(২) গাঁয় মানেনা তবু’রে তুই মোঁড়ল গায়ের জোরে- তোর পাওয়ারে দিন দুপুরে গিরস ভাগায় চোরে, তোরে কিছু কুলাংগারে-রাখে’রে বগলের তল।(৩) ভাইয়ে-ভাইয়ে দন্দ্ব লাগে মোঁড়ল’রে তোর দায় কেউ তোরে দেয় পাঁচসুতি নোট কেউবা ধরে পায়, তোর মত মোঁড়লের জ্বালায় কত মানুষ রসাতল।(৩) ভূতের মুখে রাম নাম মেছো ভূতের বেশী দাম তাইতো সবাই ভূতের পূজা করে’রে আজকাল, সত্য বললে হামলা করে মেছোভূতের পাল।(১) সাংবাদিকের কলার ধরে গনতন্ত্রের দাদা দেশপ্রেমিকের মুখে মারে জল মেশানো কাঁদা, ওরে বলবে যারা নীতির কথা শুনবে গালাগাল। সত্য বললে হামলা করে মেছোভূতের পাল।(২) দেশবিরুধী দেশের সোনা নিচ্ছে চুরি করে আমরা সবাই ঘুমিয়ে আছি গভীর নেশার ঘোরে, ওরা আমার মাথায় মারছে ছুঁড়ে আমার গাছের তাল। সত্য বললে হামলা করে মেছোভূতের পাল।(৩) পুকুর পাড়ের মেছোভূত অট্রালিকায় থাকে জোর দখলের শব্দ পেলে মনের সুখে ডাকে, বাংলাদেশের কোনায় কোনায় আছে ওদের জাল সত্য বললে হামলা করে মেছোভূতের পাল। (৪) বরাবরে বাংলার মাননীয় সরকার বিষয়বস্তু হল মৌলিক অধিকার, আমার এই আবেদন জনতার পক্ষে গ্রহণ করেন যদি শান্তির লক্ষ্যে।(২) জনাব, যেখানে দেখি সর্বদা শিশুশ্রম- সেখানেই কোটি কোটি টাকা উড়ে হরদম কেউ করে বিলাসিতা ,কেউ করে ভিক্ষা, নেতা যদি চোর হয় কারা দেবে শিক্ষা।(৩) ক্যাসিনোর মত কত অবৈধ টাকশাল- ক্ষমতার বলে চলে এই দেশে আজকাল, গভীর জলের মাছ বড় বড় গাম্বলার- তাদেরই প্রহরী থাকে সরকারি অফিসার।(৪) জনপ্রতিনিধি খায় ক্যাসিনোর কমিশন- এমন খবর শুনে হতবাক জনগণ, যুবতী মেয়েকে বাবা বাজি ধরে জুয়াতে- লংকা কান্ড চলে রাজধানী ঢাকাতে।(৫) সাধু বেশে এই দেশে মাদকের সম্রাট- দিনরাত ক্যাসিনোতে করে যায় লুটপাট, চুনোপুঁটি জেল খাটে ক্ষুদ্র ভুলের দায়- মাদক হোলসেলার অজ্ঞাত রয়ে যায়।(৬) সিজনাল নেতা করে ক্যাসিনোতে উল্লাস- সাধারণ জনতারা প্রতিদিন খায় বাঁশ, বস্তি ও ফুটপাতে লাখো লাখো নাগরিক- ভোগছে জীবন ভরে শারীরিক ও মানষিক।(৭) সোনার স্বদেশে কেন দূর্নীতি ভরপুর- সরকারি সেবা দাতা প্রকাশ্য ঘুষখোর, টেন্ডারবাজি করে নেতা হয় বড়লোক- মুখোশের অন্তরালে যতসব চিনাজোঁক।(৮) এদেশের বড় বড় যত মানি লন্ডার- শাসনের নামে করে শোষনের কারবার, ডজন ডজন থাকে সিলমারা পাসপোর্ট- ইমিগ্রেশনে আছে কেনা গোলামের জোট।(৯) দূর্নীতি অভিযান গ্রামে যদি আসত- কতশত ক্রিমিনাল অনায়াসে ফাঁসত, অধিকার ফিরে পেত লাঞ্চিত জনতা- সমাজের কোণে-কোণে থাকত না জড়তা।(১০) অতএব, মহোদয় প্রজাদের আরজি- মঞ্জুর হতে চাই আপনার মর্জি, নিবেদক, মোস্তফা অনুগত আপনার- সধারন প্রজা আমি গর্বিত বাংলার। (৫) নেতাজী তোমার চরিত্রটা আমজনতার জানা- অসৎ কাজে উৎসাহ দাও,পূন্যে কর মানা, তোমার জন্য যেখানে-সেখানে চলছে অবিচার- সেমিনারের ভাষণ তোমার ভীষন চমৎকার।(২) নেতাজী তোমার শিক্ষা আছে সততার কমজোরি- তাইতো যত বর্বরতা মেলছে নতুন কুঁড়ি, তোমার জন্য আনাচে-কানাচে চলছে গায়ের জোর- ভোগছে দেশের নিরীহ জনতা,গরীব আর মজবুর।(৩) তোমার মত নেতা’ই মঞ্চে নীতির কথা বলে- পন্যের মত বিক্রি হয়ে-বাবুর মত চলে, তোমার জন্য এই শহরে ভোগছে মজুর,চাষা- খাসের জায়গা দখল করে বানাও তুমি বাসা।(৪) তোমার ঠোঁঠে যখন ফুটে সমাজ সেবার ফুল- রাগের মাথায় নতুন বধু ভাঙ্গে কানের দুল, সত্য কথা বললে তুমি ছুড়ে মার গাল- তলে তলে সবাই তোমায় বলছে ক্রিমিনাল।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

FaceBook