দুই শিশুসহ স্ত্রীকে হত্যার আলামত, সন্দেহে স্বামী

নিউজ ডেক্স:: রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই সন্তান ও তাদের মায়ের মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, তিনজনই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আলামত ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্পষ্টতই এটা হত্যাকাণ্ড, এক্ষেত্রে প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্তা রকিব উদ্দিন আহমেদই (৪৬)। এমনকি এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায়ও আসামি করা হয়েছে রকিবকে।

গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকার ৮৩৮ নম্বর প্রেমবাগানের পাঁচতলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে মা মুন্নী বেগম (৩৭) এবং তার দুই সন্তান ফারহান উদ্দিন বিপ্লব (১২) ও লাইভা ভুঁইয়ার (৩) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ মুন্নীর স্বামী বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপ-সহকারী প্রকৌশলী রকিব উদ্দিন আহমেদ। প্রায় ১০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে ওই বাসায় ভাড়ায় থাকছিলেন রকিব। সম্প্রতি তিনি বিটিসিএলের গুলশান কার্যালয় থেকে উত্তরা কার্যালয়ে বদলি হন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তিন মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর রাতেই গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুন্নী ও তার দুই সন্তানের মরদেহ দাফন করা হয়।

ময়নাতদন্ত সম্পর্কে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. এ কে এম মাইনুদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিনটি মরদেহে পচন ধরেছিল। নিহত গৃহবধূ মুন্নীর মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। দুই শিশুকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে আলামত মিলেছে।’

‘তিন মরদেহের ভিসেরা, রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এসবের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট যে, তিনজনই হত্যাকাণ্ডের শিকার।’

দক্ষিণখানের চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একাধিক টিম।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

FaceBook