বিজিবির গুলিতে চারজন নিহত :৬ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি:: একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে বিজিবির ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ।

মামলা গ্রহণ নিয়ে নানা ধরনের টানাপোড়েনের পর শুক্রবার রাত ৭টার দিকে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগে বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে এ মামলা হয়। বিজিবির হাবিলদার মো. ইসহাক আলীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা করেন বিজিবির গুলিতে নিহত মো. মফিজ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া।

মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নিহত মফিজ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার দুপুরে মো. মফিজ মিয়াসহ অন্যদের মারধর, জখম ও সামনে থেকে গুলি করে চারজনকে হত্যা করেন বিজিবির হাবিলদার মো. ইসহাক আলীসহ বিজিবির অন্য সদস্যরা। গ্রামবাসীকে গুলি করার সময় বাধা দেন বিজিবি সদস্য শাওন খান। এ সময় তাকেও গুলি করে হত্যা করেন বিজিবির হাবিলদার মো. ইসহাক আলী।

গুলিতে নিহত মফিজ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাবিলদার ইসহাক মিয়াসহ বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পুলিশ মামলা না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ হন সাধারণ মানুষ।

এর আগে মঙ্গলবার চান মিয়ার বাগানের চার টুকরা কাঁঠাল গাছ পরিবহনকালে মাটিরাঙ্গার গাজিনগরে বাধা দেয় বিজিবি। একসময় গাছগুলো বিজিবি নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিজিবি এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

এ সময় ঘটনাস্থলে নিহত হন সাহাব মিয়া ও তার ছেলে মো. আকবর আলী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিজিবি সদস্য শাওন খান, স্থানীয় বাসিন্দা আহাম্মদ আলী, মো. মফিজ মিয়া এবং মো. হানিফ মিয়াকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেই মারা যান সাহাব মিয়ার আরেক ছেলে আহাম্মদ আলী ও বিজিবি সদস্য শাওন খান।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আহাম্মদ আলীর শ্বশুর মো. মফিজ মিয়া। এ ঘটনায় মো. মফিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

FaceBook