ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জমি থেকে প্রতিদিন মিলবে ১০-১১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের হাজীপুর ও জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা গ্রামের কৃষিজমিতে খননকৃত গ্যাস কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে অন্তত ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। গ্যাস উত্তোলনের জন্য এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গ্যসের খবরে আনন্দে উদ্বেলিত নবীনগরবাসী। এই কূপের গ্যাস তাদের দেয়ার পাশাপাশি কূপটির নাম নবীনগরের নামে করার দাবি তুলেছেন তারা।

জানা গেছে, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে হাজীপুর ও বাঙ্গরা গ্রামের কৃষিজমিগুলোতে ত্রি-মাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ করে গ্যাসের অস্তিত্ব পায় বাপেক্স। এরপর ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ১২০০ শতাংশ জমিজুড়ে গ্যাস কূপ খননকাজ শুরু করে। খননকৃত কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৪৮২ মিটার।

gas

গত ৩১ জানুয়ারি খননকাজ শেষে গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। প্রথম পরীক্ষার অংশ হিসেবে গত ৩ মার্চ রাতে একটি পাইপের মুখে আগুন দিয়ে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিকভাবে গ্যাসের চাপ ভালোই পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কূপ সংশ্লিষ্টরা। তিন ধাপের পরীক্ষা শেষে মাটির নিচ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এরপর সেই গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সময় লাগবে কয়েক মাস।

কুমিল্লার শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের অন্তর্ভুক্ত কূপটির নাম দেয়া হয়েছে শ্রীকাইল ইস্ট-১ অনুসন্ধান কূপ। এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করতে পারার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

প্রাথমিকভাবে গ্যাস কূপ খননের জন্য হাজীপুর ও বাঙ্গরা গ্রামের প্রায় ১২০০ শতাংশ কৃষি জমি লিজ নিয়েছে বাপেক্স। মৌজা ভেদে প্রতি শতাংশ জমির জন্য একজন কৃষক ১৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন। তিন বছরের জন্য জমিগুলো লিজ নেয়া হলেও গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে জমিগুলো কিনে নেবে বাপেক্স। কম দামে লিজ দিলেও দেশের জন্য জমিতে থাকা গ্যাস উৎসর্গ করতে পারায় আনন্দিত কৃষকরাও। অনেকে আবার বাপেক্সের গাড়ি চলাচালের সুবিধার্থে গ্যাস কূপের সড়কের জন্য জমিও দিয়েছেন।

জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হেকিম ব্যাপারী বলেন, আমার ও আমার ছেলের ৬৩ শতাংশ জমি পড়েছে গ্যাস কূপের আওতায়। জমিগুলোতে আমরা বছরে তিন ধরনের ধান চাষ করতাম। চাষাবাদ করে ভালোই ছিলাম। তবে আমাদের জমিতে যে গ্যাস ছিল সেটা আগে থেকেই জানতাম। জমির কাদামাটি ধরলে গ্যাসের গন্ধ করত। পাঁচ-সাত বছর আগে সেচ পাম্প বসানোর সময় পানির সঙ্গে আগুন বের হতে থাকে। তখন আমরা নিশ্চিত হই যে জমিতে গ্যাস আছে। আমাদের জমিতে থাকা গ্যাস দিয়ে দেশের উপকার হবে এটাতে আমরা খুশি। তবে আমরা চাই আমাদের এই গ্যাস যেন আগে আমাদের দেয়া হয়।কৃষকের জমি থেকে প্রতিদিন মিলবে ১০-১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

বাঙ্গরা গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহেদুজ্জামান দীপু বলেন, নবীনগরের গ্যাস সারাদেশে যাবে এটা নবীনগরের মানুষের গর্ব। দেশের স্বার্থে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় তিন শতাংশ জায়গা বিনামূল্যে ছেড়ে দিয়েছি। তবে এই কূপের নাম নবীনগরের নামে করার পাশাপাশি নবীনগরের মানুষকে গ্যাস দেয়ার দাবি জানাচ্ছি আমি।

নবীনগরের এই গ্যাস কূপটি নবীনগর গ্যাস কূপ করার জন্য বাপেক্সের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে বাপেক্স কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে শ্রীকাইল ইস্ট-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্পের খনন কর্মকর্তা মো. মহসিন আলম বলেন, বাপেক্সের নিজস্ব জনবল দিয়ে খননকাজ করা হয়েছে। আমরা গ্যাসের সন্ধান পেয়েছি ৩ হাজার ৫০ থেকে ৩ হাজার ৮২ মিটারের মধ্যে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আমরা দিতে পারব। গ্যাসের ক্রান্তিলগ্নে এই কূপ থেকে গ্যাস দিতে পারব সেজন্য আমরা আনন্দিত।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

FaceBook